বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি/রাঙামাটি://
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তা বহরের ওপর অতর্কিত হামলা ও ব্রাশফায়ার চালিয়েছে পাহাড়ি সশস্ত্র আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী 'ইউপিডিএফ'। সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২ জন সেনাসদস্য আহত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সাহসিকতা ও সুকৌশলী অভিযানে রক্ষা পেয়েছেন অবরুদ্ধ প্রায় দুই হাজার পর্যটক।
শনিবার সকালে সাজেক সড়কে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেয় এই উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি। ফলে সাজেক ভ্যালিতে ঘুরতে যাওয়া প্রায় ২,০০০ নিরীহ পর্যটক হঠাৎ করেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ এসকোর্ট (নিরাপত্তাবেষ্টনী) দিয়ে পর্যটকবাহী গাড়ি বহরকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করানো হয়। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে গাড়ি বহরটি উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয় সন্ত্রাসীরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড সরিয়ে সড়ক চলাচলের উপযোগী করতে গেলে, পাহাড়ের আড়াল থেকে সন্ত্রাসীরা আচমকা সেনাবাহিনীর ওপর প্রকাশ্যে ব্রাশফায়ার শুরু করে। এতে মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে সাধারণ পর্যটকদের জীবন রক্ষার্থে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে পাহাড়জুড়ে শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর সেনাসদস্যদের প্রচণ্ড ও সুসংগঠিত আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
অআনুষ্ঠানিক সুত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের প্রাণ বাঁচাতে বীরত্বের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ২ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর দ্রুত ও সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে পর্যটকদের একটি গাড়িরও কোনো ক্ষতি হয়নি। সবকটি পর্যটকবাহী গাড়ি ও অবরুদ্ধ পর্যটকদের সফলভাবে উদ্ধার করে দীঘিনালায় নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ও সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অবিলম্বে পাহাড়জুড়ে বড় ধরনের যৌথ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বা বিশেষ অভিযান চালানো প্রয়োজন। এখনই যদি এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শক্ত হাতে নির্মূল করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এরা আরও আধুনিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে ওই এলাকায় সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।